এক অন্যরকম মানবিক চট্টগ্রাম দেখলো বাংলাদেশ

প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২২; সময়: ৮:২৩ অপরাহ্ণ |

দুইদিন পার হলেও সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোর অগ্নিকাণ্ড এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইতিমধ্যে আরো ৪ টি কেমিক্যাল কনটেইনার শনাক্ত করেছে সেনাবাহিনী। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হযেছেন। তবে সরকারী সংস্থাগুলো এক এক রকম তথ্য দিচ্ছে। সিভিল সার্জন বলছে ৪৯ জন, জেলা প্রশাসক বলছেন ৪৫ জন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বলছেন ৪১ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী রয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন কিছু মানবিক মানুষ। কেউ রক্ত দিতে এসেছেন, কেউ খাবার ও ওষুধ দিয়েছেন। কেউ আবার রোগীদেরকে বেডে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেছেন। শুধু তাই নয় যারা রক্তদিতে বা স্বজনদেরকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তাদের কাছ থেকে ভাড়া নেননি। এই মানবিকতা শুধু চট্টগ্রামে সম্ভব। এ যেন অন্য রকম চট্টগ্রাম।

মানবিক এই মানুষের কর্মকাণ্ড গুলো ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মানবিক এসব মানুষের প্রসংশার কথা বলছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপি পর্যন্ত।

আরশেদুল আলম বাচ্চু। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক। এখন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগে গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী। ঘটনারদিন থেকে এখনো কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের সেবায়। ঘটনার দিন রাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি। তখন তার হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল”যাদের রক্ত লাগবে, খাবার লাগবে, ওষুধ লাগবে, যোগাযোগ করুন”। পরবর্তীতে নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ওষুধ দিয়ে, খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রত্যেক বেলায় রোগী ও রোগীর স্বজনদের জন্য খাবার, ফল বিতরণ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের খাবার বিতরণ করছেন।

এ বিষয়ে আরশেদুল আলম বাচ্চু বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এখানে ছুটে আসা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন সকল নেতাকর্মীদের যথাসাধ্য অগ্নিদগ্ধ ও আহতদের সহযোগিতা করার জন্য। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সকল নেতাকর্মী ঝাপিয়ে পড়েছেন। মানুষতো মানুষের জন্য। এ দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি ও আমার টিম কাজ করে যাবে।

মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের সামনে কাউন্টার করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম। সেখান থেকে খাদ্য, ওষুধসহ নানা সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা কাজ করছি মানবতার জন্য, মানুষের জন্য।

ঘটনার দিন থেকে কাজ করছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু ও আজিজুর রহমান আজিজের নেতৃত্বে কাজ করছেন তারা। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৬০ জন নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছেন। কাউন্টার খুলেছেন, রোগী ও তাদের স্বজনদের সহযোগিতায়। সেখান থেকে খাবার, ওষুধ, হাতপাখা বিতরণ করছেন।

এ বিষয়ে দেবাশীষ নাথ দেবু ও আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সব সময় গণমানুষের জন্য কাজ করে। মানবিক কাজ করাটাই আমাদের সংগঠনের কাজ। আমরা আছি এবং থাকবো। যেকোন দুর্যোগ, দুঃসময়ে আমরা মানুষের পাশে থাকবো।

লাশ পরিবহন করে ঘটনার পর থেকে আলোচনায় এসেছেন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ। তারা সীতাকুণ্ড ডিপো এলাকা থেকে প্রায় ২৯টি লাশ নিজেরা বহন করে এনেছেন। শুধু তাই নয়,গত দুইদিন জরুরি বিভাগের সামনে কাজ করছেন তারা

 

সংগঠনের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, এ ধরণের কাজ করতে পেরে আমরা সত্যিই গর্বিত। কারণ আল্লাহর ইবাদতে এর চেয়ে উত্তম কাজ আর হতে পারে না। করোনায় গাউছিয়া কমিটি লাশ দাফন করে মানুষকে দেখিয়েছে মানুষ মানুষের জন্য। আমরা কাজ করে যেতে চাই।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শুরু থেকে কাজ করছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর নেতাকর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাজ করছেন। খাবার বিতরণ, রোগীদেরকে সহযোগিতাসহ নানা সেবা করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানুষের জন্য কাজ করে। আমরা ঘটনার দিন থেকে কাজ করছি।

এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বুথ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও মহানগর যুবলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন। সেখান থেকে রোগীদের জন্য পুষ্টিকর ফল, পানি, জুস ও খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশে যুবলীগ নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে সহযোগিতা করতে।

এদিকে রোগীদেরকে সহযোগিতায় কাজ করছেন চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিন, বাংলাদেশ স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্ট, মানবিক চট্টলাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

তারুণ্যের এই শক্তি এবং মানবিক চট্টগ্রামের এসব কাজ আরো দীর্ঘায়িত হবে এমনটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

ডিজাইন ও কারিগরি: চট্টগ্রাম লাইভ
উপরে