চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালন

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২; সময়: ৫:৫০ অপরাহ্ণ |

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তাদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস-২০২২ উপলক্ষে,আজ (১২ মে) বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বেলুন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন, আলোচনা সভা,অবসরপ্রাপ্ত নার্সিং কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা ও কেক কেটে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র ২০২তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-“স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী নার্স নেতৃত্বের বিকল্প নেই-বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নার্সিং খাতে বিনিয়োগ বাড়ান ও নার্সদের অধিকার সংরক্ষণ করুন”।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা.শেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে ও সিনিয়র স্টাফ নার্স দীপ্তি ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মোঃ আব্দুর রব, সিনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো) ডা. অজয় দাশ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল, কনসালট্যান্ট (নাক, কান, গলা) ডা. মিনহাজুল হক, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. মৌমিতা দাশ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র স্টাফ নার্স তপন চন্দ্র দে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নাসিং কর্মকর্তা রাশেদুল আলম, সিনিয়র নাসিং কর্মকর্তা চায়না রানী শীল, বিদায়ী সেবা তত্ত্বাবধায়ক রোকেয়া বেগম ও নবীন নার্স মোঃ আবদুল মুহিত।

অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সেবা তত্ত্বাবধায়ক রোকেয়া বেগম, নার্সিং সুপারভাইজার গীতা চৌধুরী, নার্সিং সুপারভাইজার শ্যামলী সাহা ও সহকারী নার্স রূপন দাশকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এর পর আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র ২০২তম জন্মবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন-শান্তির পায়রা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস-২০২২ ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। র‌্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হাসপাতালে এসে শেষ হয়।র‌্যালিতে অতিথিবৃন্দরাসহ সকল নার্সিং সুপারভাইজার ও অন্যান্য নার্সিং কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ সংস্কারক ও পরিসংখ্যানবিদ মহিয়সী নারী ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে দরিদ্র-অসহায় মানুষের সেবায় নার্সদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
বক্তারা বলেন, নার্সদের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। নার্সদের কঠিন পরিশ্রম ও তাদের সেবা ছাড়া কোনো রোগীর সুস্থ হয়ে উঠা কঠিন। আজ সেই মানুষদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। সমাজে নার্সিং পেশাকে মানুষের কাছে একটি আদর্শ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনবল সংকট থাকা সত্তে¡ও দফায় দফায় চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের মাধ্যমে সরকার স্বাস্থ্য সেবা তৃণমুলে পৌঁছে দিয়েছে। মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার আমাদেরকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। তাই যতটুকু পেয়েছি তার প্রতিদানের জন্য টিম জেনারেল হাসপাতালকে দিনরাত কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একজন নার্স কোন রোগীর সাথে ভাল আচরণ করলে তার রোগ অর্ধেক ভাল হয়ে যায়। এ জন্য মানব সেবায় নিয়োজিত সকল নার্সদেরকে রোগীদের সাথে ভাল আচরণ করতে হবে। সেবার মানসিকতা ও আন্তরিকতা নিয়ে নার্সদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবসময় রোগীর পাশে থাকতে হবে। রোগীর সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে নিজের অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে সেবা দিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ১৮২০ সালে ১২মে ইতালির এর আভিজাত পরিবারে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের ১৯৭৪ সাল থেকে তাঁর জন্মদিনটি ইন্টারনেশনাল নার্সেস ডে হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ডার্বিশায়ার থেকে ১৭ বছর বয়সে লন্ডনে আসেন ফ্লোরেন্স। সেই সময় লন্ডনের হাসপাতালের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কারণে কোনও সেবিকা সে সময় কাজ করতেন না। সে সময় নার্সিং পেশাকে সামাজিকভাবে মর্যাদা দেওয়া হত না । তা সত্তে¡ও নাইটিংগেল লড়াই করেন। তিনি ১৮৫১ সালে নার্সের প্রশিক্ষণ নিতে জার্মানিতে যান। তারপর তিনি নজে ১৮৬০ সালে নার্সিংকে সম্পূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্থাপন করেন নাইটিংগেল ট্রেনিং স্কুল। তারপর ১৮৬৭ সালে নিউইয়র্কে চালু হয় উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ।
এভাবে একে জন সমক্ষে আসতে শুরু করে এই পেশার গুরুত্ব। ভারতেও তাঁরই প্রচেষ্টায় এই পেশার খ্যাতি বাড়তে থাকে। ১৮৮৩ সালে তাঁর এই কাজের জন্য তিনি রয়েল রেডক্রস সম্মান লাভ করেন। একের পর এক সম্মান পান ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। তারপর ১৮৬০ সালে লন্ডনে বিশ্বে প্রথম তৈরি হয় নার্সিং শেখানোর স্কুল। যে স্কুল নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল বিস্তর। যুগ যুগ ধরে সেবিকাদের পরিশ্রম চাক্ষুস করেছেন সকলে। শেষে করোনার সময়ও নিজের প্রাণের কথা ভুলে শুধু অসহায়দের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। সেবা করতে গিয়ে করোনার সময় প্রাণও হারিয়েছেন বহু মানুষ। আজ সেই পরিশ্রম ও সেই পরিশ্রমী মানুষদের সম্মান জানানের দিন। সকল সেবিকাদের পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা জানাতে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এ দিনটি। যুগ যুগ ধরে সেবিকাদের পরিশ্রম চাক্ষুস করেছেন সকলে। শেষে করোনার সময়ও নিজের প্রাণের কথা ভুলে শুধু অসহায়দের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। সেবা করতে গিয়ে করোনার সময় প্রাণও হারিয়েছেন বহু মানুষ। আজ সেই পরিশ্রম ও সেই পরিশ্রমী মানুষদের সম্মান জানানের দিন।

ডিজাইন ও কারিগরি: চট্টগ্রাম লাইভ
উপরে